প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ১১:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে অগ্রগতি, যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার জব্দ: গভর্নর

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারী’ উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা দেশে ফেরানো হবে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও জব্দের কাজ চলছে। জব্দ করা অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি জানান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নয়ন ও সমন্বয়ের কাজ শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

খেলাপি ঋণ ও নতুন আইন

খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান গভর্নর। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ

ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ নিয়ে গভর্নর বলেন, একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরো অনুমোদনের কার্যক্রম এগোচ্ছে।

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়নের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেন বাড়ানো গেলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মত দেন গভর্নর।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত সীমার বেশি ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের তহবিলের সুদহার কমানো হয়েছে, যা আমদানিপণ্যের দাম কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সম্পাদক পরিষদের উপস্থিতি

সাক্ষাতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, শামসুল হক জাহিদ, মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান, এএমএম বাহাউদ্দীন, শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও মোস্তফা মামুনসহ পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও বৈঠকে অংশ নেন।

সভায় সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। উভয় পক্ষ আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন