প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়। এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাখেতে মাটিচাপা দেওয়া ও বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহের সন্ধান মেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে আসামিকে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি থামিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িঘরে আগুন দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবারও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রশাসনের একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভুট্টাখেতে শিশুটির মরদেহ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। পরে আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনতা বাধা দেয়। বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা আবার সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন